গল্পের আসর
ছবি, অ্যানিমেশন আর বাংলা কণ্ঠে ছোটদের ইসলামী ইতিহাসের গল্প। পছন্দের বই বেছে নাও, পড়ো আর শোনো।
ছবি আর অডিওসহ গল্প দেখতে ব্রাউজারে JavaScript চালু করো।
সবার জন্য পানি
অনেক দিন আগের কথা। মদিনা শহরে মানুষের রোজ পানি লাগত। পানি খেতে হতো, রান্না করতেও লাগত।
আজ শোনাব সেই শহরের একটি কুয়ার গল্প। আর একজন মানুষের কথা, যিনি কুয়াটি কিনে মানুষকে পানি নিতে দিয়েছিলেন।
মদিনায় রুমা নামে একটি কুয়া ছিল। সেই কুয়ার পানি ছিল মিষ্টি।
দড়িতে বাঁধা বালতি কুয়ার ভেতর নামানো হতো। বালতি ভরে গেলে টেনে ওপরে তোলা হতো।
কিন্তু এই কুয়ার একজন মালিক ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পানি কিনে নিতে হতো।
তাই কুয়ায় পানি থাকলেও, টাকা না দিয়ে সেই পানি নেওয়া যেত না।
গরিব পরিবারগুলোর হাতে বেশি টাকা ছিল না। সবার জন্য যতটা পানি দরকার, ততটা কেনার টাকা জোগাড় করা কঠিন ছিল।
পানি কম হলে বাচ্চারা কষ্ট পেত। পরিবারের অন্যরাও কষ্ট পেত। খাওয়া আর রান্না করা - দুটোর জন্যই তো পানি লাগে।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কেউ এই কুয়া কিনে মুসলমানদের পানি নিতে দিলে জান্নাতে পুরস্কার পাবে।
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের টাকা দিয়ে কুয়াটি কিনলেন। সবাইকে পানি নিতে দিলেন। এখন আর পানির জন্য টাকা দিতে হতো না।
এবার গরিব মানুষও টাকা না দিয়ে কুয়া থেকে পানি নিতে পারতেন। বাড়িতে পানি আনা তাঁদের জন্য সহজ হলো।
বাচ্চারা পানি খেতে পারত। রান্নার জন্যও পানি থাকত। একটি দানে কত মানুষের উপকার হলো!
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর দান থেকে আমরা কী শিখলাম? কাউকে সাহায্য করলে তার কষ্ট একটু কমে।
আমরাও দান করতে পারি। নিজের খাবার ভাগ করে দিতে পারি। মা-বাবার সঙ্গে মিলে জমানো টাকা থেকে কিছু দিতে পারি। অল্প দিলেও কারও কাজে লাগতে পারে।
আজ তুমি কাকে সাহায্য করতে চাও?
ছোট্ট পিঁপড়ার কথা
অনেক দিন আগের কথা। সুলাইমান আলাইহিস সালাম ছিলেন আল্লাহর একজন নবী। আল্লাহ তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন।
একদিন তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে চলছিলেন। পথে ছিল পিঁপড়াদের একটি উপত্যকা।
সুলাইমান আলাইহিস সালামের বাহিনী উপত্যকার কাছে এলো। সেখানে ছিল ছোট ছোট পিঁপড়া।
এত বড় বাহিনী! পিঁপড়াগুলো যদি পায়ের নিচে পড়ে যায়? একটি পিঁপড়া অন্যদের সাবধান করে দিল।
পিঁপড়াটি বলল, “ও পিঁপড়ারা! তোমরা নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ো। সুলাইমান আর তাঁর বাহিনী হয়তো তোমাদের খেয়াল করবে না। অজান্তেই তোমাদের পায়ের নিচে চাপা দিতে পারে।”
ছোট্ট পিঁপড়াটি সবার কথা ভেবেছিল।
পিঁপড়াটি সবাইকে ঘরে ঢুকতে বলেছিল। নিজের সঙ্গে অন্যদের নিরাপত্তার কথাও তার মনে ছিল।
বিপদ দেখলে অন্যকে সাবধান করা—এটাও তো সাহায্য করা।
সুলাইমান আলাইহিস সালাম ছোট্ট পিঁপড়াটির সাবধান করার কথাও শুনতে পেলেন! আল্লাহ তাঁকে পিঁপড়ার কথা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন।
পিঁপড়াটির কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। তারপর আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।
আল্লাহ তাঁকে আর তাঁর মা-বাবাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ থাকতে চাইলেন। আর এমন ভালো কাজ করতে চাইলেন, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।
ছোট্ট পিঁপড়ার কাছ থেকেও আমরা শিখতে পারি। শুধু নিজের কথা ভাবব না, অন্যদের কথাও ভাবব।
পথে পিঁপড়া দেখলে সাবধানে হাঁটব। অকারণে তাদের ঘর নষ্ট করব না। আর আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য শুকরিয়া করব।
মনে থাকবে তো ছোট্ট বন্ধুরা?